Take a fresh look at your lifestyle.

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮

0 397

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা আপিল) বিধিমালা, ২০১৮

প্রজ্ঞাপন

                তারিখ : ২৯ চৈত্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ/১২ এপ্রিল ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ

এস,  আর,  ও  নং  ১১০-আইন/২০১৮।-গণপ্রজাতন্ত্রী  বাংলাদেশের  সংবিধান  এর  অনুচ্ছেদ ১৩৩  এর  শর্তাংশে  প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি,  উক্ত  সংবিধানের  অনুচ্ছেদ ১৪০(২) এর  বিধান মোতাবেক বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, নিমরূপ বিধিমালা প্রণয়ন করিলেন,যথা :-

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রয়োগ। –

(১) এই বিধিমালা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ নামে অভিহিত হইবে।

(২) এই বিধিমালা নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি বা কর্মচারী ব্যতীত অন্যান্য সকল সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, যথা :-

(ক)     রেলওয়ে সংস্থাপন কোড প্রযোজ্য হয় এমন ব্যক্তি;

(খ)     মেট্রোাপলিটান পুলিশের অধস্তন কর্মচারী;

(গ)     পুলিশ পরিদর্শকের নিম্ন পদমর্যাদার পুলিশ বাহিনীর অন্য কোনো সদস্য;

(ঘ)     বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর অধস্তন কর্মকর্তা, রাইফেলম্যান ও সিগন্যালম্যান;

(ঙ)     জেলার এর নিম্ন পদমর্যাদার বাংলাদেশ জেলের অধস্তন কর্মচারী;

(চ)      সরকার  কর্তৃক,  সরকারি  গেজেটে  প্রজ্ঞাপন  দ্বারা  নির্দিষ্টকৃত  কোনো  চাকুরী  বা  পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিগণ; এবং

(ছ)     এমন  কোন  ব্যক্তি  যাহার  চাকুরীর  শর্তাবলি,  বেতন,  ভাতাদি,  পেনশন,  শৃঙ্খলা  ও আচরণ  বা  এতদসংক্রান্ত  যে  কোন  বিষয়ে  চুক্তির  মাধ্যমে  বিশেষ  বিধান  করা হইয়াছে।

২। সংজ্ঞা।-এই বিধিমালায়, বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোন কিছু না থাকিলে,-

(ক)     “অভিযুক্ত”অর্থ  এইরূপ  কোনো  সরকারি  কর্মচারী  যাহার  বিরুদ্ধে  এই  বিধিমালার অধীন কোনো কার্যক্রম (Aaction) গ্রহণ করা হইয়াছে;

(খ)     “অসদাচরণ”অর্থ অসংগত আচরণ বা চাকুরী শৃঙ্খলার জন্য হানিকর আচরণ, অথবা সরকারি কর্মচারীদের আচরণ সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিমালার কোনো বিধানের পরিপন্থি কোনো  কার্য,  অথবা  কোনো  সরকারি  কর্মচারীর  পক্ষে  শিষ্টাচার  বহির্ভূত  কোনো আচরণ, এবং নিম্মবর্ণিত আচরণসমূহও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা :

(অ)     ঊধর্য়তন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্যকরণ;

(আ)  কর্তব্যে অবহেলা প্রদর্শন;

(ই)     আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে সরকারের  কোনো  আদেশ,  পরিপত্র  এবং নির্দেশ অবজ্ঞাকরণ;

(ঈ)     কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট কোনো   সরকারি কর্মচারীর  বিরুদ্ধে   অসংগত, ভিত্তিহীন, হয়রানিমূলক, মিথ্যা অথবা তুচ্ছ অভিযোগ সংবলিত দরখাস্ত দাখিল; অথবা

(উ)     অন্য  কোনো  আইন  বা  বিধি-বিধানে  যে  সমস্ত  কার্য  অসদাচরণ  হিসাবে  গণ্য হইবে মর্মে উল্লেখ আছে এইরূপ কোনো কার্য।

(গ)     “কর্তৃপক্ষ” অর্থ নিয়োগকারী কর্তৃপ্ল অথবা, সরকার কর্তৃক, সময় সময়, জারিকৃত সাধারণ  বা  বিশেষ  নির্দেশনা  সাপেক্ষে,  এই  বিধিমালার  অধীন  কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা প্রয়োগের  জন্য  নিয়োজিত  বা  মনোনীত  কোনো  কর্মকর্তা,  এবং  কর্তৃত্বের  ক্রমধারায় নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(ঘ)     “কমিশন” অর্থ বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন;

(ঙ)     “দন্ড” অর্থ এই বিধিমালার অধীন আরোপযোগ্য কোনো দন্ড;

(চ)      “পলায়ন (desertion)” অর্থ বিনা অনুমতিতে চাকুরি ত্যাগ করা অথবা ৬০ (ষাট) দিন বা তদূর্ধ্ব সময় বিনা অনুমতিতে কর্ম হইতে অনুপস্থিত থাকা অথবা কর্ম হইতে অনুমোদিত অনুপস্থিতির ধারাবাহিকতায় অনুমোদিত সময়ের অতিরিক্ত  ৬০  (ষাট) দিন  বা  তদুর্ধ্ব  সময়  পুনঃঅনুমতি  গ্রহণ  ব্যতিরেকে  অনুপস্থিত থাকা  অথবা  বিনা অনুমতিতে দেশ ত্যাগ এবং ৩০ (ত্রিশ) দিন বা তদূর্ধ্ব সময় বিদেশে অবস্থান করা অথবা অনুমতিসহ দেশ ত্যাগ করিবার পর অনুমোদিত সময়ের অতিরিক্ত ৬০ (ষাট) দিন বা তদূর্ধ্ব সময় অননুমোদিতভাবে বিদেশে অবস্থান করা; এবং

(জ)     “সরকারি  কর্মচারী”  অর্থ  প্রজাতন্ত্রের  কর্মে  নিযুক্ত  কোনো  ব্যক্তি,  এবং  বৈদেশিক চাকুরিতে  নিয়োজিত  অথবা  কোনো  স্থানীয় কর্তৃপক্ষ  বা  অন্য  কোনো  কর্তৃপক্ষ  বা কোনো বিদেশি সরকার বা সংস্থায় অস্থায়ী ভিত্তিতে ন্যস্তকৃত কোন ব্যক্তি।

৩। দন্ডের ভিত্তি।- কর্তৃপক্ষের মতে যে ক্ষেত্রে কোনো সরকারি কর্মচারী-

(ক)     শারীরিক বা মানসিক অসামর্থতা, অথবা সাধারণ দক্ষতা বজায় রাখা বা বৃদ্ধির জন্য নির্ধারিত  বিভাগীয়  পরীক্ষায়  পর  পর  দুই  বা  ততোধিকবার  অকৃতকার্যতা,  অথবা যুক্তিসংগত  কারণ  ব্যতিরেকে  উক্ত  পরীক্ষায়  অংশগ্রহণ  করিতে  ব্যর্থ  হওয়া,  অথবা যুক্তিসংগত কারণ ব্যতিরেকে এই বিধিমালার অধীনে তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত  হইয়া  তদন্ত  কার্যক্রম  নির্ধারিত  সময়ের  মধ্যে  আরম্ভ  করিতে  কিংবা  তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে অদক্ষ হন, অথবা দক্ষতা হারান এবং তাঁহার উক্তরূপ দক্ষতা পুনরায় অর্জনের কোনো সম্ভাবনা না থাকে; অথবা

(খ)     অসদাচরণের দায়ে দোষী হন; অথবা

(গ)     পলায়নের দায়ে দোষী হন; অথবা

(ঘ)     দুর্নীতি পরায়ণ হন, অথবা নিম্মবর্ণিত কারণে দুর্নীতি পরায়ণ বলিয়া যুক্তিসংগতভাবে বিবেচিত হন-

(অ) তিনি বা তাহার উর নির্ভরশীল অথবা অন্য যে কোনো ব্যক্তি তাহার মাধ্যমে বা তাহার  পক্ষে  যদি  তাহার  জ্ঞাত  আয়ের  উৎসের সহিত  অসামঞ্জস্যপূর্ণ  কোনো অর্থ-সম্পদ  বা  অন্য কোনো  সম্পত্তির  (যাহার  যুক্তিসংগত  হিসাব  দিতে  তিনি অক্ষম) অধিকারী হন, অথবা

(আ)  তিনি প্রকাশ্য আয়ের সহিত সংগতিবিহীন জীবন-যাপন করেন; অথবা

(ই) তাহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি পরায়ণতার অব্যাহত কুখ্যাতি থাকে; অথবা

(ঙ)     নাশকতামূলক কর্মে লিপ্ত হন, বা লিপ্ত রহিয়াছেন বলিয়া সন্দেহ করিবার যুক্তিসংগত কারণ  থাকে,  অথবা  নাশকতামূলক  কাজে  লিপ্ত  অন্যান্য  ব্যক্তির  সহিত  জড়িত রহিয়াছেন  বলিয়া  সন্দেহ  করিবার  যুক্তিসংগত  কারণ  থাকে,  এবং  সেই  কারণে তাহাকে চাকুরীতে রাখা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হানিকর বলিয়া বিবেচিত হয়; তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ, বিধি ৪ এর উপ-বিধি (৬) এর বিধান সাপেক্ষে, তাহার উপর এক বা একাধিক দন্ড আরোপ করিতে পারিবে।

৪।  দন্ড।-(১)  এই  বিধিমালার  অধীন  নিম্মবর্ণিত দুই  ধরনের দন্ড আরোপ করা যাইবে, যথা :-

(ক) লঘুদন্ড; এবং

(খ) গুরুদন্ড।

(২)     উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত লঘুদন্ডসমূহ হইবে নিম্মরূপ, যথা:-

(ক) তিরস্কার;

(খ) চাকুরী বা পদ সম্পর্কিত বিধি বা আদেশ অনুযায়ী পদোন্নতি বা আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির অযোগ্যতার  ক্ষেত্র  ব্যতীত,  নির্দিষ্ট  মেয়াদের  জন্য  পদোন্নতি  বা  বেতন  বৃদ্ধি  স্থগিত রাখা;

(গ) কর্তব্যে  অবহেলা  বা  সরকারি  আদেশ  অমান্য  করিবার  কারণে  সংঘটিত  সরকারের আর্থিক  ক্ষতির  সম্পূর্ণ  অংশ  বা  উহার  অংশবিশেষ,  বেতন  বা  আনুতোষিক  হইতে আদায় করা; অথবা

(ঘ) বেতন গ্রেডের নিম্মতর ধাপে অবনমিতকরণ।

(৩)     উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত গুরুদন্ডসমূহ হইবে নিমরূপ যথা:-

(ক) নিম্নপদ বা নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ;

(খ) বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান;

(গ) চাকুরী হইতে অপসারণ;

(ঘ) চাকুরী হইতে বরখাস্তকরণ।

(৪)      উপ-বিধি (৩) এর অধীন কোন কর্মচারীর উপর-

(ক)    চাকুরী হইতে অপসারণের দন্ড আরোপ করা হইলে তিনি সরকারের অধীন বা কোনো আইনের  দ্বারা  বা  আইনের  অধীন  প্রতিষ্ঠিত  কোনো  সংবিধিবদ্ধ  সংস্থার  (body corporate) চাকুরীতে নিযুক্ত হইবার অযোগ্য হইবেন না; এবং

(খ)     চাকুরী  হইতে  বরখাস্তকরণের  দন্ড  আরোপ  করা  হইলে  সরকারের  অধীন  বা  কোনো আইনের  দ্বারা  বা  আইনের  অধীন  প্রতিষ্ঠিত  কোনো  সংবিধিবদ্ধ  সংস্থার  চাকুরীতে নিযুক্ত হইবার অযোগ্য হইবেন।

(৫)     এই বিধিতে উল্লিখিত দন্ডসমূহ নিম্মরূপভাবে আরোপ করা যাইবে, যথা :-

(ক)     বিধি  ৩  এ  বর্ণিত  অদক্ষতার  জন্য  তিরস্কার  এবং  চাকুরী  হইতে  বরখাস্ত  ব্যতীত  যে

কোনো দন্ড;

(খ)     অন্য কোনো অদক্ষতার জন্য চাকুরী হইতে বরখাস্ত ব্যতীত যে কোনো দন্ড;

(গ)     অসদাচরণের জন্য যে কোনো দন্ড;

(ঘ)     পলায়নের জন্য তিরস্কার ব্যতীত যে কোনো দন্ড;

(ঙ)    দুর্নীতির জন্য যে কোনো দন্ড, তবে উক্ত অপরাধের পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে নিম্মপদ বা নিম্ম

বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ দন্ড ব্যতীত যে কোনো দন্ড;

(চ)      নাশকতামূলক কার্যকলাপের জন্য নিম্মবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ ব্যতীত যে কোনো দন্ড।

(৬)     কোনো সরকারি কর্মচারীর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অধস্তন কোনো কর্তৃপক্ষ এই বিধিমালার অধীন কোনো গুরুদন্ড আরোপ করিতে পারিবে না।

(৭)      উপ-বিধি  (৩) এর দফা (গ) ও (ঘ)  এর অধীন “চাকুরী হইতে অপসারণ” ও “চাকুরী হইতে  বরখাস্তকরণ”  অভিব্যক্তি  অর্থে  এইরূপ  কোন  ব্যক্তির  চাকুরী  হইতে  অব্যাহতি  (discharge)

অন্তর্ভুক্ত হইবে না যিনি-

(ক)     শিক্ষানবিশ  হিসাবে  নিয়োগপ্রাপ্ত  হইয়া  তাহার  মেয়াদ  চলাকালে  বা  তাহার  প্রতি প্রযোজ্য শিক্ষানবিশকাল; অথবা

(খ)     চুক্তি  ব্যতীত  অন্য  যে  কোনো  উপায়ে  কোন  অস্থায়ী  চুক্তিভিত্তিক  নিয়োগ  ধরিয়া রাখিবার জন্য, সেই নিযুক্তিকাল শেষ হইলে; অথবা

(গ)     কোন চুক্তির অধীনে নিযুক্ত হইলে সেই চুক্তির শর্ত মোতাবেক।

৫।  নাশকতামূলক  কার্যকলাপের  ইেত্রে  তদন্তের  পদ্ধতি।-(১)  কোনো  সরকারি  কর্মচারীর বিরুদ্ধে  বিধি  ৩  এর  দফা  (ঙ)  তে  উল্লিখিত  কার্যকলাপের  জন্য  কার্যধারা  সূচনা  করিবার  ক্ষেত্রে

কর্তৃপক্ষ

(ক)     সংশ্লিষ্ট  সরকারি  কর্মচারীকে,  লিখিত  আদেশ  দ্বারা,  উক্ত  আদেশে  উল্লিখিত  তারিখ হইতে প্রাপ্যতা অনুযায়ী ছুটিতে যাইবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে;

(খ)     তাহার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করিবে, সেই ব্যবস্থার ভিত্তি সম্পর্কে তাহাকে

লিখিতভাবে অবহিত করিবে; এবং

(গ)     অভিযোগ  তদন্তের  জন্য  উপ-বিধি  (২)  এর  অধীন  অভিযোগ  তদন্তের  জন্য  গঠিত তদন্ত কমিটির নিকট তাহার বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত ব্যবস্থার বিপক্ষে কারণ দর্শাইবার জন্য তাহাকে যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিবে :

তবে, শর্ত থাকে যে, যে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি মনে করিবেন যে, বাংলাদেশের নিরাপত্তার স্বার্থে  এইরূপ  সুযোগ  প্রদান  করা সমীচীন  নহে,  সেইক্ষেত্রে তাহাকে এইরূপ সুযোগ প্রদান করা হইবে না।

(২)     যে ক্ষেত্রে উপ-বিধি (১) এর দফা (গ) অনুসারে তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন হয়,

সেইক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত সরকারি কর্মচারীর পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন ৩ (তিন)

জন গেজেটেড কর্মচারী সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করিবে।

(৩)     উপ-বিধি  (২)  এর  অধীনে  গঠিত  তদন্ত  কমিটি  অভিযোগের  তদন্ত  করিবে  এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিকট তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যাদি প্রতিবেদন আকারে পেশ করিবে এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত তথ্যাদির ভিত্তিতে যেইরূপ উপযুক্ত বলিয়া মনে করিবে সেইরূপ আদেশ প্রদান করিবে।

৬। লঘুদন্ড- আরোপের ক্ষেত্রে তদন্তের পদ্ধতি।―(১) যখন কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধি ৩ এর দফা (ক) বা (খ) বা (গ) তে বর্ণিত কারণে কার্যধারা সূচক করিবার প্রয়োজন হয় এবং কর্তৃপক্ষ কিংবা, যে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি নিজেই কর্তৃপক্ষ, সেইক্ষেত্রে উক্ত সরকারি কর্মচারী যে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অধীন সেই মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব অথবা যে কর্মকর্তাকে কর্তৃপক্ষ কিংবা

প্রশাসনিক  মন্ত্রণালয়  বা  বিভাগের  সচিব,  সাধারণ  বা  বিশেষ  আদেশ  দ্বারা,  এতদুদ্দেশ্যে  যাহাকে কর্তৃপ্ক্ষ হিসেবে নির্ধারণ করিয়াছেন, তিনি যদি অভিমত পোষণ করেন যে, তাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত  হইলে  অভিযুক্তের  তিরস্কার  দন্ড  অপেক্ষা  কঠোরতর  কোনো  দন্ড  প্রদান  করা  হইবে,  তাহা হইলে কর্তৃপক্ষ অথবা, ক্ষেত্রমত, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব অথবা সংশ্লিষ্ট কর্মচারী―

(ক)     অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ তাহাকে  লিখিতভাবে  অবহিত  করিবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক অভিযোগনামা প্রাপ্তির ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে তাহার আচরণের কৈফিয়ত প্রদানের জন্য এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে শুনানির ইচ্ছা পোষণ করেন কিনা, তাহাও জানাইবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হইবার  পূর্বে অভিযুক্ত ব্যক্তি সময় বৃদ্ধির  আবেদন  করিলে  কর্তৃপক্ষ  অথবা,  ক্ষেত্রমত,  প্রশাসনিক  মন্ত্রণালয়  বা বিভাগের সচিব অথবা সংশ্লিষ্ট কর্মচারী তাহাকে বক্তব্য দাখিল করিবার সুযোগ প্রদানের জন্য অতিরিক্ত ৭ (সাত) কার্যদিবস পর্যন্ত সময় বর্ধিত করিতে পারিবে; এবং

(খ)     অভিযুক্ত  ব্যক্তি  দফা  (ক)  এর  অধীন  নির্ধারিত  বা  বর্ধিত  সময়ের  মধ্যে  পেশকৃত কৈফিয়ত,  যদি  থাকে,  বিবেচনা  করিবেন  এবং  তিনি  যদি  ব্যক্তিগতভাবে  শুনানির  ইচ্ছা পোষণ  করিয়া  থাকেন,  তাহা  হইলে  ব্যক্তিগত  শুনানি  গ্রহণ  করিবেন,  অথবা  নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি তিনি কৈফিয়ত পেশ না করিয়া থাকেন, তাহা হইলে এইর মধ্যে তাহাকে লঘুদন্ড প্রদান করিতে পারিবে :

 

তবে  শর্ত  থাকে  যে,  কর্তৃপক্ষ,  সচিব  বা  সংশ্লিষ্ট  কর্মচারী,  যে  ক্ষেত্রে  যিনি  হন, যুক্তিযুক্ত  মনে  করিলে  অভিযোগ  তদন্তপূর্বক  প্রতিবেদন  দাখিলের  জন্য  অভিযুক্তের পদমর্যাদার  নিম্নে  নহেন  এমন  একজন  কর্মচারীকে  তদন্ত  কর্মকর্তা  নিয়োগ  করিতে পারিবে।

(২)     তদন্তকারী  কর্মকর্তার নিকট  হইতে তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর, কর্তৃপক্ষ  বা, ক্ষেত্রমত, সচিব অথবা সংশ্লিষ্ট কর্মচারী আদেশের পক্ষে যুক্তি ও প্রমাণ উল্লেখ করিয়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণক্রমে উহা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অবহিত করিবে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী পুনঃতদন্ত বা অধিকতর তদন্তের জন্য আদেশ প্রদান করিবে।

(৩)     উপ-বিধি (২) এর  অধীন তদন্তের আদেশ দেওয়া হইলে, কর্তৃপক্ষ  বা, ক্ষেত্রমত, সচিব অথবা  সংশ্লিষ্ট কর্মচারী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।

(৪)      যখন  কোনো  সরকারি  কর্মচারীর  বিরুদ্ধে  বিধি  ৩  এর  দফা  (ক)  বা  (খ)  বা  (গ)  অধীন

কোনো কার্যধারা সূচনা করা হয় এবং উপ-বিধি (১) এ বর্ণিত কর্তৃপক্ষ, সচিব অথবা সংশ্লিষ্ট কর্মচারী যদি  এইরূপ  অভিমত  পোষণ  করেন  যে,  অভিযোগ  প্রমাণিত  হইলে  অভিযুক্তকে  তিরস্কার  দন্ড  প্রদান করা  যাইতে  পারে,  তাহা  হইলে,  কর্তৃপক্ষ  বা  ক্ষেত্রমত,  সচিব  অথবা  সংশ্লিষ্ট  কর্মচারী  অভিযুক্তের ব্যক্তিগত  শুনানি  গ্রহণপূর্বক  কারণ  লিপিবদ্ধ  করিয়া  তিরস্কার  দন্ড  আরোপ  করিতে  পারিবে  অথবা অভিযুক্ত ব্যক্তিগত শুনানির জন্য হাজির হইতে ব্যর্থ হইলে বা উপস্থিত হইতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিলে শুনানি ব্যতিরেকেই উক্ত তিরস্কার দন্ড আরোপ করা যাইবে অথবা উপ-বিধি (১) হইতে (৩) এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া তাহার উপর যে কোন দন্ড আরোপ করা যাইবে।

(৫)    উপ-বিধি  (৪)  এ  উল্লিখিত  ক্ষেত্রে  অভিযোগ  প্রমাণিত  হইলে  তিরস্কার  দন্ড  অপেক্ষা কঠোরতর দন্ড আরোপ করিতে হইবে।

(৬)     যদি  অভিযুক্ত  ব্যক্তি  দাবি  করেন  যে,  তাহার  বিরুদ্ধে  আনীত  অভিযোগ  লিখিতভাবে

জানাইতে হইবে, তাহা হইলে উপ-বিধি (১) হইতে (৩) এ বণির্ত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে এবং

এইক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হইলে তিরস্কার দন্ড অপেক্ষা কঠোরতর দন্ড আরোপ করিতে হইবে।

৭। গুরুদন্ড আরোপের ক্ষেত্রে তদন্তের পদ্ধতি।―(১) যে ক্ষেত্রে বিধি ৩ এর দফা (ক) বা (খ) বা  (গ)  বা  (ঘ)  এর  অধীন  কোনো  কার্যধারা  সূচনা  করা  হয়  এবং  কর্তৃপক্ষ  যদি  মনে  করে  যে,

অভিযোগ প্রমাণিত হইলে কোনো গুরুদন্ড আরোপ করা প্রয়োজন হইতে পারে, যে ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ-

(ক)     অভিযোগনামা প্রণয়ন করিবে ও উহাতে প্রস্তাবিত দন্ডের বিষয় উল্লেখ করিবে, এবং

যে সকল অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযোগনামাটি প্রণীত হইয়াছে, উহার বিবরণ এবং

কর্তৃপক্ষ আদেশ প্রদানকালে  অন্য  যে  সকল  পারিপার্শ্বিক  অবস্থা   বিবেচনা  করিবার

ইচ্ছা পোষণ করেন উহাসহ অভিযোগনামাটি উক্ত কর্মচারীকে অবহিত করিবে;

(খ) অভিযুক্ত  ব্যক্তিকে  অভিযোগনামা  প্রাপ্তির  ১০  (দশ)  কার্যদিবসের  মধ্যে  আত্মপক্ষ সমর্থনে  লিখিত  বক্তব্য  দাখিল  করিতে  বলিবেন  এবং  সেই  সঙ্গে  প্রস্তাবিত  দন্ড  কেন তাহার  উপর  আরোপ  করা  হইবে  না  উহার  কারণ  দর্শাইতে  বলিবে  এবং  তিনি ব্যক্তিগতভাবে শুনানির ইচ্ছা পোষণ করেন কিনা তাহাও উল্লেখ করিবে :

তবে  শর্ত  থাকে  যে,  নির্ধারিত  সময়সীমা  শেষ  হইবার  পূর্বে  অভিযুক্ত  ব্যক্তি সময়  বৃদ্ধির  আবেদন  করিলে  কর্তৃপক্ষ  তাহাকে  বক্তব্য  দাখিল  করিবার  সুযোগ প্রদানের জন্য অতিরিক্ত ১০ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় বর্ধিত করিতে পারিবে।

(২) যে  ক্ষেত্রে  অভিযক্ত  ব্যক্তি  নির্ধারিত  বা  বর্ধিত  সময়ের  মধ্যে  আত্মপক্ষ  সমর্থনে  লিখিত

বক্তব্য  দাখিল  করিলে  এবং  যদি  তিনি  ব্যক্তিগত  শুনানি  পাইবার  ইচ্ছা  পোষণ  করেন,  তাহা  হইলে

ব্যক্তিগতভাবে শুনানির  পর  কর্তৃপক্ষ অভিযোগের  সহিত  সংশ্লিষ্ট  সকল  বিষয়সহ  দাখিলকৃত  বক্তব্য

বিবেচনা করিবে, এবং অনুরূপ বিবেচনার পর কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন যে,―

(ক) অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সূচিত কার্যধারাটি অগ্রসর হইবার মতো উপযুক্ত ভিত্তি নাই, তাহা  হইলে,  অভিযোগ  প্রত্যাহার  করিবে  এবং  তদনুসারে  উক্ত  কার্যধারা  নিষ্পত্তি হইবে;

(খ) অভিযুক্ত ব্যক্তি শর্তহীনভাবে সকল অভিযোগ স্বীকার করেন এবং কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন যে, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় লঘুদন্ড আরোপযোগ্য হইবে, তাহা হইলে,যে  কোনো লঘুদন্ড আরোপ  করিবে, তবে গুরুদন্ড আরোপযোগ্য হইবে বলিয়া ধারণা করা  হইলে  কর্তৃপক্ষ  দফা  (ঘ)  অনুযায়ী  তদন্ত  কর্মকর্তা  বা  তদন্ত  বোর্ড  নিয়োগ করিবে;

(গ) অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যধারাটি অগ্রসর হইবার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি রহিয়াছে, কিন্তু অভিযোগ  প্রমাণিত  হইলে  লঘুদন্ড  আরোপযোগ্য  হইবে,  তাহা  হইলে  অভিযুক্ত ব্যক্তিকে,  ব্যক্তিগতভাবে  শুনানির  সুযোগ  প্রদান  করিয়া  যে  কোনো  লঘুদন্ড  প্রদান করিতে  পারিবে,  অথবা  লঘুদন্ড  আরোপের উদ্দেশ্যে  একজন  তদন্ত কর্মকর্তা  নিয়োগ করিয়া বিধি ৬ এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে পারিবে;

(ঘ)     অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যধারাটি অগ্রসর হইবার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি রহিয়াছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হইলে গুরদন্ড আরোপযোগ্য হইবে, তাহা হইলে অভিযোগনামায় বর্ণিত অভিযোগ তদন্তের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এইরূপ একজন তদন্ত কর্মকর্তা বা ৩ (তিন) জন কর্মকর্তা সমন্বয়ে একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করিবে।

 

(৩)     অভিযুক্ত  ব্যক্তি  যদি  নির্ধারিত  বা  বর্ধিত  সময়ের  মধ্যে আত্মপক্ষ  সমর্থনে  কোনো  লিখিত বক্তব্য দাখিল না করেন, তাহা হইলে নির্ধারিত বা বর্ধিত সময় শেষ হইবার তারিখ হইতে ১০ (দশ) কার্যদিবসের  মধ্যে  কর্তৃপক্ষ  অভিযোগনামায়  বর্ণিত  অভিযোগ  তদন্ত  করিবার  জন্য  অভিযুক্ত  ব্যক্তির পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এইরূপ একজন তদন্ত কর্মকর্তা অথবা ৩ (তিন) জন কর্মকর্তা সমন্বয়ে একটি তদন্ত বোর্ড নিয়োগ করিবে।

(৪)      তদন্তের  আদেশ  প্রাপ্তির  তারিখ  হইতে  ৭  (সাত)  কার্যদিবসের  মধ্যে,  ক্ষেত্রমত,  তদন্ত কর্মকর্তা বা তদন্ত বোর্ড তদন্তের কাজ আরম্ভ করিবে এবং বিধি ১১ এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসারে তদন্ত পরিচালনা করিবে এবং কর্তৃপক্ষের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিবে।

(৫)     তদন্ত কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, তদন্ত বোর্ডের তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে দ্বিমতের কারণে ভিন্ন তদন্তকারী কর্মকর্তা বা তদন্ত বোর্ড নিয়োগ করা যাইবে না :

তবে শর্ত থাকে যে, তদন্ত চলাকালে নিম্মবর্ণিত কারণে নূতন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ বা তদন্ত বোর্ড পুনর্গঠন করা যাইবে, যথা :-

(ক) তদন্ত কর্মকর্তা বা তদন্ত বোর্ডের কোনো সদস্যের মৃত্যু হইলে;

(খ) তদন্ত কর্মকর্তা বা তদন্ত বোর্ডের কোনো সদস্য চাকুরী হইতে পদত্যাগ করিলে;

(গ) তদন্ত কর্মকর্তা বা তদন্ত বোর্ডের কোনো সদস্য চাকুরী হইতে অবসর গ্রহণ করিলে; বা

(ঘ) তদন্ত কর্মকর্তা বা তদন্ত বোর্ডের কোনো সদস্য চাকুরীতে দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে তদন্ত কার্য সম্পাদনে অসমর্থ বলিয়া প্রতীয়মান হইলে।

(৬)     উপ-বিধি (৫) এর বিধান অনুযায়ী নূতন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ বা তদন্ত বোর্ড পুনর্গঠন করা  হইলে  নূতন  তদন্ত  কর্মকর্তা  বা  পুনর্গঠিত  তদন্ত  বোর্ড  পূর্বের  অসমাপ্ত  তদন্তের  ধারাবাহিকতায় তদন্তের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করিবে।

(৭)      তদন্তকারী  কর্মকর্তা  বা,  ক্ষেত্রমত,  তদন্ত  বোর্ডের  প্রতিবেদন  প্রাপ্তির  পর  কর্তৃপক্ষ  উহা বিবেচনা  করিয়া  অভিযোগের  বিষয়ে  সঠিক  সিদ্ধান্তে  উপনীত  হইবার  জন্য  কোনো  সুনির্দিষ্ট  বিষয়ে পুনঃতদন্তের প্রয়োজনীয়তা মনে করিলে, একই তদন্তকারী কর্মকর্তা বা তদন্ত বোডর্কে সুনির্দিষ্ট বিষয় ও তথ্যসমূহ উল্লেখ করিয়া অভিযোগ পুনঃতদন্তের আদেশ দিতে পারিবে।

(৮)     তদন্ত কর্মকর্তা  বা  তদন্ত  বোর্ডের  তদন্ত  প্রতিবেদন  বা  পুনঃতদন্ত  প্রতিবেদন  প্রাপ্তির  পর কর্তৃপক্ষ  উহা  বিবেচনা  করিবে,  অভিযোগ  বিষয়ে  উহার  সিদ্ধান্ত  লিপিবদ্ধ  করিবে  এবং  উক্ত  সিদ্ধান্ত,তদন্ত প্রতিবেদনের কপিসহ, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অবহিত করিবে।

(৯)     কর্তৃপক্ষ যদি উপ-বিধি (৮) এর অধীনে গুরুদন্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাহা হইলে প্রস্তাবিত  দন্ড  কেন  অভিযুক্ত  ব্যক্তির  উপর  আরোপ  করা  হইবে  না  সে  সম্পর্কে  অভিযুক্ত  ব্যক্তিকে ৭(সাত) কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাইবার নির্দেশ প্রদান করিবে।

(১০)    গুরুদন্ড  প্রদানের  জন্য  যে  সকল  ক্ষেত্রে  কমিশনের  সহিত  পরামর্শ  করা  প্রয়োজন,  সেই সকল  ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ,  উপ-বিধি  (৯)  এ  বর্ণিত  সময়  সীমার  মধ্যে  কোনো  কারণ  দর্শানো  হইলে উহাসহ সূচিত কার্যধারার কাগজপত্র কমিশনের নিকট পরামর্শের জন্য প্রেরণ করিবে।

(১১)    বিভাগীয় কার্যধারায়-

(ক) যে ক্ষেত্রে কমিশনের সহিত পরামর্শের প্রয়োজন নাই, সেইক্ষেত্রে উপ-বিধি (৯) এ বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক কারণ দর্শানো হইলে উহা বিবেচনার পর, এবং

(খ) যে  ক্ষেত্রে  কমিশনের  সহিত  পরামর্শের  প্রয়োজন  আছে,  সেইক্ষেত্রে  অভিযুক্ত  ব্যক্তি কর্তৃক কোনো কারণ দর্শানো হইলে উহা এবং কমিশন প্রদত্ত পরামর্শ বিবেচনার পর,কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে এবং উহা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অবহিত করিবে।

(১২)    এই বিধির অধীন তদন্ত কার্যক্রম এবং যে ক্ষেত্রে  তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত বোর্ড নিয়োগ করা হয়, সেইক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তা বা তদন্ত বোর্ডের প্রতিবেদন এবং প্রতিবেদনে প্রদত্ত মতামতের ভিত্তি পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণাদির ভিত্তিতে হইতে হইবে।

৮।  নোটিশ  জারির পদ্ধতি- (১)  এই  বিধিমালার  বিধি  ৫,  ৬  বা  ৭  এর  অধীন  অভিযুক্ত ব্যক্তির বরাবরে নোটিশ জারি করিতে হইবে।

(২)    উপ-বিধি  (১)  এর  অধীন  নোটিশ  জারির  ক্ষেত্রে  অভিযুক্তের  বর্তমান  বা  স্থায়ী  ঠিকানায়

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর আদেশ ৫ এর বিধি ১ হইতে ৩০ অনুসরণক্রমে নোটিশ জারি করা হইলে বা অভিযুক্তের ই-মেইল ঠিকানায় নোটিশ প্রেরণ করা হইলেও উহা যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

৯।  ব্যতিক্রম।-যে  ক্ষেত্রে  অভিযুক্ত  ব্যক্তি  তাহার  আচরণের  জন্য  ফৌজদারি  অপরাধে সাজাপ্রাপ্তির কারণে চাকুরী হইতে বরখাস্ত বা চাকুরী হইতে অপসারিত অথবা পদাবনতি হন; অথবা যে ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে চাকুরী হইতে বরখাস্ত অথবা চাকুরী হইতে অপসারিত অথবা পদাবনমিত করিবার জন্য  উপযুক্ত  কর্তৃপক্ষ এই  মর্মে  সন্তুষ্ট হন  যে,  অভিযুক্ত  ব্যক্তিকে  কারণ  দর্শাইবার  সুযোগ  প্রদান যুক্তিযুক্তভাবে বাস্তবসম্মত নহে এবং কর্তৃপক্ষ ইহার স্বপক্ষে কারণ লিপিবদ্ধ করেন, সেইক্ষেত্রে বিধি ৬ এবং ৭ এর বিধানাবলির কোনো কিছুই প্রযোজ্য হইবে না।

১০। শারীরিক বা মানসিক অসমর্থ্যতা সম্পর্কে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আদেশ দানের ক্ষমতা।-

(১) যে ক্ষেত্রে মানসিক বা শারীরিক অসমর্থ্যতার কারণে অদক্ষতার জন্য কোনো সরকারি কর্মচারীর  বিরুদ্ধে বিভাগীয়  কার্যধারা  সূচনা  করিবার  প্রস্তাব  করা  হয়,  সেইক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ উক্ত  কার্যধারার  যে

কোনো পর্যায়ে উক্ত সরকারি কর্মচারীকে মেডিকেল বোর্ড বা সিভিল সার্জন দ্বারা, যে ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ

যেইরূপ নির্দেশ দিবেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিদের্শ দিতে পারিবে এবং মেডিকেল বোর্ড বা সিভিল

সার্জনের প্রতিবেদন বিভাগীয় কার্যধারার অংশ বলিয়া গণ্য হইবে।

(২)    কোনো সরকারি কর্মচারী যদি উক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষায়  উপস্থিত হইতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন,তাহা  হইলে,  উপস্থিত না  হইবার  স্বপক্ষে  তাহার  প্রদত্ত  কোনো  ব্যাখ্যা  সাপেক্ষ্যে,  উক্ত  অস্বীকৃতিকে তাহার বিরুদ্ধে এই মর্মে বিবেচনা করা যাইবে যে, অনুরূপ পরীক্ষর ফলাফল তাহার অনুকূলে যাইবে না মর্মে তিনি বিশ্বাস করেন।

১১। তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক অনুসরণীয় পদ্ধতি।-(১) তদন্তকারী কর্মকর্তা একাধারে প্রতিদিন

কোনো কার্যধারার শুনানি গ্রহণ করিবেন এবং কারণ লিপিবদ্ধ না করিয়া উক্ত শুনানি মুলতবি করিবেন না।

(২)     তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক পরিচালিত তদন্তে-

(ক) অভিযুক্ত ব্যক্তি যে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন সেই সকল অভিযোগ সম্পর্কে,

মৌখিক স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হইবে এবং উভয় পক্ষকে অভিযোগ সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক বা গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক সাক্ষ্য উপস্থাপনের যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিতে হইবে এবং এইরূপ কোন সাক্ষ্য উপস্থাপিত হইলে উহা বিবেচনা করিতে হইবে;

(খ) অভিযুক্ত  ব্যক্তি  প্রতিপক্ষের  সাক্ষীগণকে  জেরা  করায়,  ব্যক্তিগতভাবে  সাক্ষী  প্রদান করিবার  এবং  তাহার  পক্ষ  সমর্থনকারী  কোনো  ব্যক্তিকে  সাক্ষী  হিসাবে  উপস্থাপন করিবার অধিকারী হইবেন;

(গ) অভিযোগের সমর্থনে সূচিত কার্যধারা উপস্থাপনকারী  ব্যক্তি  অভিযুক্ত  ব্যক্তিকে  এবং তাহার সাক্ষীগণকে জেরা করিবার অধিকারী হইবেন; এবং

(ঘ) অভিযুক্ত  ব্যক্তি  প্রাসঙ্গিক  নথিপত্রের  জন্য  অনুরোধ  করিতে  পারিবেন,  তবে  তাহাকে নথির টোকার কোনো অংশ দেখিতে দেওয়া হইবে না।

(৩)     তদন্তকারী কর্মকর্তা, কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, নির্দিষ্ট কোন সাক্ষীকে তলব করিতে বা সমন দিতে বা সাক্ষী গ্রহণ করিতে অস্বীকার করিতে পারিবেন।

১২ । সাময়িক বরখাস্ত।-(১) কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধি ৩ এর অনুচ্ছেদ (খ) বা (গ) বা (ঘ) এর অধীনে কার্যক্রম গ্রহণের প্রস্তাব করা হইলে কর্তৃপক্ষ সমীচীন মনে করিলে উক্ত কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করিতে পারিবে :

তবে  শর্ত  থাকে  যে,  কর্তৃপক্ষ  অধিকতর  সমীচীন  মনে  করিলে,  উক্ত  সরকারি  কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করিবার পরিবর্তে লিখিত আদেশ দ্বারা আদেশে উল্লিখিত তারিখ হইতে, তাহার ছুটির প্রাপ্যতা সাপেক্ষে তাহাকে ছুটিতে যাইবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২)  কোনো  সরকারি  কর্মচারীর  বিরুদ্ধে  চাকুরী  হইতে  বরখাস্ত,  অপসারণ  বা  বাধ্যতামূলক অবসর  দন্ডের  আদেশ  যদি  কোনো  আদালত  বা  প্রশাসনিক  টুাইব্যুনাল  কর্তৃক  রহিত  বা  বাতিল  বা অকার্যকর ঘোষিত হয় এবং যদি কর্তৃপক্ষ যে অভিযোগের ভিত্তিতে চাকুরী হইতে বরখাস্ত, অপসারণ বা বাধ্যতামূলক অবসরদানের দন্ড আরোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছিলেন, সেই অভিযোগের উপর সূচিত কার্যধারার  প্রেক্ষাপট  বিচেনাপূর্বক  পুনঃতদন্তের  সিদ্ধান্ত  গ্রহণ  করেন,  তাহা  হইলে  যে  তারিখ  হইতে প্রথম  চাকুরী  হইতে  বরখাস্ত,  অপসারণ  বা  বাধ্যতামূলক  অবসরের  দন্ড  আরোপ  করা  হইয়াছিল,  ঐ তারিখ হইতে সরকারি কর্মচারী সাময়িকভাবে বরখাস্ত রহিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সাময়িক বরখাস্ত অব্যাহত থাকিবে।

১৩।  চাকুরী  হইতে  বাধ্যতামূলকভাবে  অবসরপ্রাপ্ত,  অপসারিত  অথবা  বরখাস্তকৃত  সরকারি কর্মচারীগণের  ইতিপূরণ  অবসরভাতা,  আনুতোষিক,  ইত্যাদি।-(১) ক্ষতিপূরণ,  অবসর  ভাতা  বা আনুতোষিকের  পরিমাণ  সম্পর্কে  রাষ্ট্রপতির  যে  কোনো  আদেশ  সাপেক্ষে একজন  বাধ্যতামূলকভাবে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, অতঃপর বর্ণিত বিধানের ক্ষেত্র ব্যতীত, এইরূপ ক্ষতিপূরণ অবসরভাতা বা আনুতোষিক বা ভবিষ্য তহবিল সুবিধাদি প্রাপ্য হইবেন সেইরূপে, তিনি যদি কোনো বিকল্প উপযুক্ত চাকুরীর ব্যবস্থা ব্যতীত তাহার পদ বিলুপ্তির কারণে চাকুরীচ্যুত হইতেন তাহা হইলে, তাহার চাকুরী বা পদের প্রতি প্রযোজ্য বিধিসমূহের অধীনে অবসর গ্রহণ তারিখে যেইরূপ প্রাপ্য হইতেন :

তবে  শর্ত  থাকে  যে,  বিধি  ১২  এর  অধীনে  সাময়িক  বরখাস্তকালের  পর  বাধ্যতামূলক  অবসর প্রদানের  ক্ষেত্রে  উক্ত ক্ষতিপূরণ  অবসর  ভাতা  বা  আনুতোষিক  বা  ভবিষ্য  তহবিল  সুবিধাদি  সাময়িক বরখাস্তকাল বাদ দিয়া কেবল চাকুরীকালের জন্য প্রাপ্য হইবেন :

আরো  শর্ত  থাকে  যে,  যে  ক্ষেত্রে  কোনো  অস্থায়ী  সরকারি  কর্মচারীকে  মানসিক  বা  শারীরিক অসামর্থ্যরে কারণে অদক্ষতা হেতু অবসর প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস এর বিধি ৩২১ এর অধীনে অবসরকালীন সুবিধাদি পাইবেন।

(২)  রাষ্ট্রপতি  কর্তৃক  করুণাবশত  প্রদত্ত  কোনো  আদেশ  ব্যতীত  চাকুরি  হইতে  অপসারিত  বা বরখাস্তকৃত   কোনো   সরকারি   কর্মচারী   কোনো   ক্ষতিপূরণ,   অবসর   ভাতা,   আনুতোষিক   অথবা অংশপ্রদায়ক ভবিষ্য তহবিলে সরকারের চাঁদা হইতে উদ্ভূত সুবিধাদি পাইবেন না।

১৪। পুনর্বহাল।-(১) বিধি ৫ এর উপ-বিধি (১) এর অনুচ্ছেদ (ক) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ অনুযায়ী ছুটিতে প্রেরিত কোনো সরকারি কর্মচারীকে যদি বরখাস্ত, অপসারণ, নিম্নপদে পদাবনমিত বা বাধ্যতামূলক  অবসর  প্রদান  করা  না  হয়,  তাহা  হইলে,  ক্ষেত্রমত,  তাহাকে  চাকুরীতে  পুনর্বহাল  করা হইবে, অথবা তাহাকে তাহার পদমর্যাদায় আসীন বা সমপদ মর্যা দা প্রদান করা হইবে এবং তাহার উক্ত ছুটিকাল পূর্ণ বেতনে কর্তব্যকাল বলিয়া গণ্য হইবে।

(২) সাময়িক বরখাস্তের পর পুনর্বহাল সংক্রান্ত বিষয়াদি বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে।

১৫।  স্থানীয়  কর্তৃপক্ষ,  ইত্যাদিতে  ন্যস্ত  কর্মকর্তাগণের  বিরুদ্ধে  তদন্তের  পদ্ধতি।-(১)  যে সরকারি  কর্মচারী  প্রতি  এই  বিধিমালা  প্রযোজ্য  তাহার  চাকুরী  স্থানীয়  বা  অন্য  কোনো  কর্তৃপক্ষকে, অতঃপর এই বিধিতে হাওলাত গ্রহীতা কর্তৃপক্ষ (borrowing authority) বলিয়া উল্লিখিত, হাওলাত দেওয়া  হইলে,  এই  বিধিমালার  অধীন  তাহার  বিরুদ্ধে  কার্যধারা  সূচনা  করিবার  উদ্দেশ্যে  কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা হাওলাত গ্রহীত কর্তৃপক্ষের থাকিবে :

তবে  শর্ত  থাকে  যে,  হাওলাত  গ্রহীতা  কর্তৃক্ষ  উক্ত  সরকারি  কর্মচারীর  চাকুরী  হাওলাত প্রদানকারী  কর্তৃপক্ষকে (lending authority), অতঃপর  এই  বিধিতে  হাওলাত  প্রদানকারী  কর্তৃপক্ষ হিসাবে উল্লিখিত, যে পরিস্থিতিতে কার্যধারা শুরু করা হইয়াছে তাহা অবিলম্বে অবহিত করিবে।

(২)     হাওলাত গ্রহীতা কর্তৃপ্ল হাওলাত হিসাবে গৃহীত কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনা অভিযোগের  প্রাথমিক  তদন্ত  করিয়া  বিভাগীয়  কার্যক্রম  গ্রহণ  করিবার  মতো  পর্যাপ্ত  কারণ  রহিয়াছে বলিয়া  মনে  করিলে  নিজেরা  বিভাগীয়  কার্যক্রম  গ্রহণ  না  করিয়া  সমুদয়  রেকর্ডপত্র  ও  তথ্য  হাওলাত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের নিকট এই বিধির অধীনে বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহণ করিবার জন্য প্রেরণ করিতে পারিবে।

(৩)     উপ-বিধি  (২)  এর  অধীন  সমুদয়  রেকর্ডপত্র  ও  তথ্য  প্রাপ্তির  পর  হাওলাত  প্রদানকারী

কর্তৃপক্ষ  সামগ্রিক  বিষয়টি  বিবেচনা  করিয়া  বিভাগীয়  কার্যক্রম  গ্রহণ  করিবার  জন্য  পর্যাপ্ত  কারণ

রহিয়াছে  বলিয়া  মনে  করিলে  হাওলাত  হিসাবে  প্রদত্ত  সংশ্লিষ্ট  কর্মচারীর  বিরুদ্ধে  এই  বিধির  অধীনে

বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহণ করিবে এবং বিধি মোতাবেক বিষয়টি নিষ্পত্তি করিবে।

(৪)      উপ-বিধি  (১)  অনুসারে  কোনো  সরকারি  কর্মচারীর  বিরুদ্ধে  দায়েরকৃত  মামলার  তদন্তের

ফলাফলের ভিত্তিতে হাওলাত গ্রহীতা কর্তৃপক্ষ মনে করে যে, তাহার উপর দন্ড আরোপ করা উচিৎ তাহা হইলে

হাওলাত গ্রহীতা কর্তৃপক্ষ হাওলাত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষে নিকট উক্ত মামলার সমুদয় রেকর্ডপত্র প্রেরণ করিবে।

(৫)     উপ-বিধি (৪) এর অধীন সমুদয় রেকর্ডপত্র প্রাপ্তির পর হাওলাত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ নিজে দন্ডদানের  উপযুক্ত  কর্তৃপক্ষ  হইলে  যেইরূপ  প্রয়োজন  মনে  করিবে  সেইরূপ  আদেশ  প্রদান  করিতে পারিবে অথবা, যদি নিজে কর্তৃপক্ষ না হন, তাহা হইলে মামলাটি দন্ডদানের যোগ্য কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় আদেশ দানের জন্য উপস্থাপন (submit) করিবে।

(৬)     এই বিধির অধীনে কর্তৃপক্ষ হাওলাত গ্রহীতা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রেরিত তদন্ত রেকর্ডের উপর অথবা  তিনি  যেইরূপ  প্রয়োজন  মনে  করিবে  সেইরূপ  অধিকতর  তদন্ত  অনুষ্ঠানের  পর  আদেশ  প্রদান করিতে  পারিবে  এবং  এইরূপ  আদেশ  প্রদানের  ক্ষেত্রে  বিধি  ৭  এর  উপ-বিধি  (৯)  ও  (১০)  এর বিধানসমূহ অনুসরণ করিতে হইবে।

১৬।  আদেশের  বিরুদ্ধে  আপিল।-(১)  কোনো  সরকারি  কর্মচারী  এই  উদ্দেশ্যে  সরকারের সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট, অথবা যে ক্ষেত্রে এইরূপ কোনো কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত নাই, সেইক্ষেত্রে আদেশদানকারী কর্তৃপক্ষের পরবর্তী ঊধর্য়তন কর্তৃপক্ষের নিকট, অথবা যে ক্ষেত্রে   নিয়োগকারী   কর্তৃপক্ষের   অধস্তন   কোনো   কর্তৃপক্ষ   আদেশদান   করিয়াছেন,   সেইক্ষেত্রে নিয়োগকারী  কর্তৃপক্ষের  নিকট,  নিম্মবর্ণিত  যে  কোনো  আদেশের  বিরুদ্ধে  আপিল  দায়ের  করিতে পারিবেন, যথা :-

(ক) তাহার উপর যে কোনো দন্ড আরোপের আদেশের বিরুদ্ধে;

(খ) চুক্তি ভিত্তিতে নিযুক্ত হইয়া  চুক্তির  শর্তানুসারে  চাকুরীর  অবসানের  সময়  পর্যন্ত একনাগারে ৫ (পাঁচ) বৎসরের অধিককাল চাকুরীতে নিয়োজিত থাকিলে, উক্ত ক্ষেত্রে চাকুরীর অবদান ঘটানোর আদেশের বিরুদ্ধে;

(গ) তাহার বেতন, ভাতাদি, পেনশন বা চাকুরীর অন্যান্য শর্তাবলি যাহা চাকুরীর বিধি বা চুক্তি  দ্বারা  নিয়ন্ত্রিত  হয়,  তাহার  স্বার্থের  প্রতিকূলে  পরিবর্তন,  রদবদল  বা  অগ্রাহ্য করিবার আদেশের বিরুদ্ধে; অথবা

(ঘ) চাকুরীর যে বিধি বা চুক্তি দ্বারা তাহার বেতন, ভাতাদি, পেনশন বা চাকুরীর অন্যান্য শর্তাবলি নিয়ন্ত্রিত হয়, উহার কোনো বিধানে তাহার স্বার্থের প্রতিকূল ব্যাখ্যা সংবলিত আদেশের বিরুদ্ধে।

১৭। আপিল দায়েরের সময়সীমা।-যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হইবে, উক্ত আদেশ সম্পর্কে আপিলকারী অবহিত হইবার তারিখের ৩ (তিন) মাসের মধ্যে আপিল দায়ের করা না হইলে এই বিধিমালার অধীনে কোনো আপিল গ্রহণ করা হইবে না :

তবে শর্ত থাকে যে, যদি আপিল কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট  হন যে, যথাসময়ে আপিলকারীর আপিল দায়েরকরিতে  না  পারিবার  পর্যায়  কারণ  রহিয়াছে,  তাহা  হইলে  আপিল  কর্তৃপক্ষ উপরোল্লিখিত  মেয়াদ অতিবাহিত  হওয়া  সত্ত্বেও    পরবর্তী  ৩  (তিন)  মাসের  মধ্যে  কোনো  আপিল  বিবেচনার  জন্য  গ্রহণ করিতে পারিবে।

১৮। আপিল দায়েরের রীতি ও পদ্ধতি।-(১) এই বিধিমালার অধীন আপিল দায়ের করিতে হইলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে পৃথকভাবে এবং স্বীয় নামে আপিল দায়ের করিতে হইবে।

(২)     উপ-বিধি (১) এর অধীন আপিল কর্তৃপক্ষকে সম্বোধন করিয়া দায়েরকৃত প্রতিটি আপিল আবেদন   আপিলকারী   কর্তৃক   তার   স্বপক্ষে   গুরুত্বপূর্ণ   ও   যুক্তি   নির্ভর   তর্থসমূহ   অন্তর্ভুক্তিক্রমে স্বয়ংসম্পূর্ণরূপে দায়ের করিতে হইবে এবং উহাতে কোনো অসম্মানজনক বা অশোভন ভাষা ব্যবহার করা যাইবে না।

(৩)     প্রতিটি  আপিল  আবেদন  আপিলকারী  যে  অফিসে  কর্মরত  আছেন  সেই  অফিসের  অফিস প্রধানের  মাধ্যমে  অথবা,  তিনি  চাকুরীরত  না  থাকিলে,  সর্বশেষ  যে  অফিসে  চাকুরীরত  ছিলেন  সেই অফিসের অফিস প্রধানের মাধ্যমে এবং যে কর্তৃপক্ষের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হইতেছে, উক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দায়ের করিতে হইবে :

তবে শর্ত থাকে যে, আপিল আবেদনের একটি অগ্রিম কপি আপিল কর্তৃপক্ষের নিকট সরাসরি

দাখিল করা যাইবে।

১৯। আপিল স্থগিত (withheld) বা আটক রাখা -(১) যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হইয়াছে, সেই আবেদনকারী কর্তৃপক্ষ উক্ত আপিল স্থগিত রাখিতে পারিবে, যদি উহা-

(ক)     এইরূপ  কোনো  আদেশের  বিরুদ্ধে দায়ের  করা  হইয়াছে  যাহার  জন্য  কোনো  আপিল

দায়ের করা যায় না; অথবা

(খ)     বিধি ১৭ তে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দায়ের করা না হইয়া থাকে এবং বিলম্বের কোনো কারণ দর্শানো না হইয়া থাকে; অথবা

(গ)     বিধি ১৮ এ বর্ণিত যে কোনো বিধান পালন না করা হইয়া থাকে; অথবা

(ঘ)     পূর্বের  কোনো  আপিলের  পুনরাবৃত্তি  হয়  এবং  যে  আপিল  কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুরুপ আপিলে ইতঃপূর্বে সিদ্ধান্ত প্রদান করা হইয়াছে সেই একই আপিল কর্তৃপক্ষের নিকট দায়ের  করা  হইয়া  থাকে  এবং  মামলাটি  পুনর্বিবেচনার  কারণ  হিসাবে  নূতন  কোনো তথ্য বা পরিস্থিতি উদ্ভব হইয়া থাকে :

তবে শর্ত থাকে যে, আপিল গত রাখিবার প্রতিটি ক্ষেত্রে, উক্ত তথ্য এবং স্থগিত রাখিবার কারণ আপিলকারীকে অবহিত করিতে হইবে :

তবে  আরও  শর্ত  থাকে  যে,  কেবল  বিধি  ১৮  এর  বিধানসমূহ  পালনে  ব্যর্থ  হইবার কারণে স্থাগিত রাখা আপিল, স্থগিত রাখা সম্পর্কে আপিলকারী অবহিত হইবার তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে যে কোনো সময় পুনরায় দায়ের করিতে পারিবে এবং উক্ত বিধানসমূহ  পালনপূর্বক  পুনরায়  দায়ের  করা  হইলে  আপিল  আবেদনটি  আটক রাখা যাইবে না।

(২)     উপর্যুক্ত কর্তৃপক্ষ যৌক্তিক কোনো কারণে আপিল স্থগিত রাখিলে উহার বিরুদ্ধে আপিল করা যাইবে না।

(৩)     এই বিধির অধীনে কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্থগিত রাখা আপিল আবেদনসমূহের তালিকা, স্থগিত রাখিবার  কারণসহ,  উক্ত  কর্তৃপক্ষ আপিল  কর্তৃপক্ষরে  নিকট  প্রতি  ৩  (তিন)  মাসে  একবার করিয়া প্রেরণ করিবে।

২০।  আপিল  অগ্রায়ন।-(১)  যে  কর্তৃপøের  আদেশের  বিরুদ্ধে  আপিল  দায়ের  করা  হইয়াছে সেই  কর্তৃপক্ষ  বিধি  ১৯  এর  অধীনে  স্থগিত  রাখা  হয়  নাই  এইরূপ  প্রতিটি  আপিল  মন্তব্য  ও  সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রসহ আপিল কর্র্তৃপক্ষের নিকট অগ্রায়ন করিবে।

(২)  আপিল  কর্তৃপক্ষ  বিধি  ১৯  এর  অধীনে  স্থগিত  রাখা  যে  কোনো  আপিল  আবেদন  তলব করিতে  পারিবে  এবং  উহা  করা  হইলে  উক্ত  আপিল  উহার  স্থগিতকারী  কর্তৃপক্ষের  মন্তব্য  ও  সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রসহ আপিল কর্তৃপক্ষের নিকট যথারীতি অগ্রায়ন করিতে হইবে।

২১।  আপিল  নিষ্পত্তি।-(ক)  কোনো  দন্ড  আরোপের  আদেশের  বিরুদ্ধে  আপিলের  ক্ষেত্রে,

আপিল কর্তৃপক্ষ নিম্মবর্ণিত বিষয়গুলি বিবেচনা করিবে এবং যেইরূপ আদেশ প্রদান করা উপযুক্ত মনে

করিবে সেইরূপ আদেশ প্রদান করিবে-

(ক)     এই বিধিমালায় বর্ণিত নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসৃত হইয়াছে কিনা এবং যদি হইয়া থাকে, তবে অনুসৃত না হওয়ার কারণে ন্যায়বিচার ব্যাহত হইয়াছে কিনা;

(খ)     অভিযোগের উপর প্রাপ্ত তথ্যাদি যথার্থ কিনা; এবং

(গ)     আরোপিত দন্ড মাত্রাতিরিক্ত, পর্যাপ্ত বা অপর্যাপ্ত কিনা।

(২)     দন্ডাদেশ ব্যতীত অন্য কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে, আপিল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সম্পর্কিত তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করিবে এবং যেইরূপ আদেশ প্রদান যথাযথ ও ন্যায়সংগত বলিয়া বিবেচিত হইবে সেইরূপ আদেশ প্রদান করিবে।

(৩)     যে  কর্তৃপক্ষের  আদেশের  বিরুদ্ধে  আপিল  দায়ের  করা  হইয়াছে  উক্ত  কর্তৃপক্ষ  আপিল কর্তৃপক্ষের  আদেশ  প্রাপ্তির  তারিখ  হইতে  ৩০  (ত্রিশ)  কার্যদিবসের  মধ্যে  আপিল  কর্তৃপক্ষে  আদেশ কার্যকর করিবে।

২২।  পুনর্বিবেচনা।-(১)  রাষ্ট্রপতি  কর্তৃক  প্রদত্ত  কোনো  আদেশের  দ্বারা  কোনো  সরকারি কর্মচারী  সংক্ষুব্ধ  হইলে  তিনি  আদেশটি  পুনর্বিবেচনার  জন্য  রাষ্ট্রপতির  নিকট  আবেদন  করিতে পারিবেন।

(১)      আবেদনকারী  যে  আদেশের  দ্বারা  সংক্ষুব্ধ  হইয়াছেন,  উক্ত  আদেশ  জ্ঞাত  হইবার  তারিখ হইতে  ৩  (তিন)  মাসের  মধ্যে  পুনর্বিবেচনার  আবেদন  দাখিল  না  করিলে  কোনো  আবেদনপত্র পুনর্বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হইবে না :

তবে শর্ত থাকে যে, যদি রাষ্ট্রপতির নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আবেদনকারী কর্তৃক যথাসময়ে  আবেদন  দাখিল  করিতে  না  পারিবার  পযার্প্ত কারণ  রহিয়াছে,  তাহা  হইলে উপরোল্লিখিত মেয়াদ অতিবাহিত   সত্ত্বেও   পরবর্তী   ৩   (তিন)   মাসের   মধ্যে   কোনো   আবেদন পুনর্বিবেচনার জন্য গ্রহণ করিতে পারিবে।

(৩)    প্রত্যেক ব্যক্তি পুনর্বিবেচনার আবেদন নিজ নামে ও পৃথকভাবে দাখিল করিবেন।

(৪)      পুনর্বিবেচনার  জন্য  প্রত্যেকটি  আবেদন  যে  অফিসে  আবেদনকারী  কর্মরত  আছেন  অথবা চাকুরিরত  না  থাকিবার  ক্ষেত্রে  সর্বশেষ  যে  অফিসে  কর্মরত  ছিলেন,  সেই  অফিসের  অফিস  প্রধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির নিকট দাখিল করিতে হইবে।

(৫)     পুনর্বিবেচনার  আবেদনের  উপর  রাষ্ট্রপতি  যেইরূপ  আদেশ  প্রদান  উপযুক্ত  মনে  করিবেন

সেইরূপ আদেশ প্রদান করিবে।

২৩। পুনরীক্ষণ।-রাষ্ট্রপতি, নিজ উদ্যোগে কিংবা অন্যভাবে, সংশ্লিষ্ট মামলার রেকর্ডপত্র তলব করিয়া এই বিধিমালার অধীনে আপিলে প্রদত্ত যে কোনো আদেশ অথবা যাহার বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা হয় নাই, এইরূপ আপিলযোগ্য কোনো আদেশ উক্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে এক বৎসরের মধ্যে সংশোধন করিতে পারিবেন।

২৪। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ আপিলযোগ্য নয়।-এই বিধিমালায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল দায়ের করা যাইবে না।

২৫।  আদালতে  বিচারাধীন  কার্যধারা।-(১)  কোনো  সরকারি  কর্মচারীর  বিরুদ্ধে  কোনো আদালতে একই বিষয়ের উপর ফৌজদারি কার্যধারা বা আইনগত কার্যধারা বিচারাধীন থাকিলে, তাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকিবে না।

(২)     The Public Servants (Dismissal on Conviction) Ordinance, ১৯৮৫ (১৯৮৫ সনের  ৫নং  অধ্যাদেশ)  এ  বর্ণিত  অপরাধ  ব্যতীত  অন্য  কোনো  অপরাধের  দায়ে  কোনো  সরকারি কর্মচারী আদালত কর্তৃক দন্ড প্রাপ্ত হইলে তাহাকে এই বিধিমালার অধীনে দন্ড প্রদান করা হইবে কিনা তৎসম্পর্কে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।

(৩)     কর্তৃপক্ষ  এই  বিধিমালার  অধীনে  তাহাকে  দন্ড  প্রদানের  সিদ্ধান্ত  গ্রহণ  করিলে,  বিষয়টির পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ যেইরূপ বিবেচনা করিবে সেইরূপ দন্ড আরোপ করিতে পারিবে এবং এইরূপ দন্ড আরোপের  ক্ষেত্রে  কোনো  কার্যধারা  সূচনা  করিবার  প্রয়োজন  হইবে  না  এবং  প্রস্তাবিত  দন্ডের  বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর জন্য সরকারি কর্মচারীকে কোনো সুযোগ প্রদানেরও প্রয়োজন হইবে না।

(৪)      কর্তৃপক্ষ উক্ত  সরকারি  কর্মচারীর  উপর  কোনো  দন্ড  আরোপ  না  করিবার   সিদ্ধান্ত  গ্রহণ করিলে তাহাকে চাকুরিতে পুনর্বহাল করা বা বহাল রাখিবার জন্য নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অব্যবহিত ঊর্ধ্বতন  কর্তৃপক্ষের  অথবা  যে  ক্ষেত্রে  রাষ্ট্রপতি  নিজেই  নিয়োগকারী  কর্তৃপক্ষ  সেইক্ষেত্রে  রাষ্ট্রপতির অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।

২৬। অন্য কোনো আইনের অধীনে প্রাপ্য অধিকার বা বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ন না করা।-এই বিধিমালায়  যাহা  কিছুই  থাকুক  না  কেন,  কোনো  ব্যক্তি  বিদ্যমান  আইন  বা  এই  বিধিমালা  প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে উক্ত ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে বিদ্যমান কোনো চুক্তি বা সমঝোতার অধীনে কোনো কিছু প্রাপ্য হইলে তিনি উক্তরূপ অধিকার বা বিশেষ অধিকার হইতে বঞ্চিত হইবেন না।

২৭।  আদেশ  জারির  কার্যকরতা।-(১)  এই  বিধিমালার  অধীনে  কোনো  আদেশ  প্রদান  করা হইলে উহা আদেশ জারির তারিখ হইতে কার্যকর হইবে।

(২) বিধি ২ এ উল্লিখিত পলায়নের কারণে কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধি ৩ ও ৪ এর অধীন কোন দন্ড আরোপ করা হইলে উহা পলায়নের তারিখ হইতে কার্যকর করা যাইবে।

২৮।  রহিতকরণ ও হেফাজত।- The   Government   Servants   (Discipline   and Appeal) Rules, ১৯৮৫, অতঃপর রহিত বিধিমালা বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্বারা রহিত করা হইল।

(২) উপ-বিধি (১) এর অধীন রহিত হওয়া সত্বেও, রহিত বিধিমালার অধীন-

(ক)    কৃত কাজকর্ম বা গৃহীত কোন ব্যবস্থা এই বিধিমালার অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ)     গৃহীত  বা  সূচিত  কোন  কার্য  বা  কার্যধারা  অনিষ্পন্ন  থাকিলে  উহা  অব্যাহত  থাকিবে এবং এই বিধিমালার বিধান অনুসারে নিষ্পন্ন করিতে হইবে; এবং

(গ)     কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা  প্রয়োগের  জন্য  রাষ্ট্রপতি  কর্তৃক  মনোনীত  কোনো  কর্তৃপক্ষ  বা কর্মকর্তা, অথবা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কর্তৃপক্ষ বলিয়া গণ্য কোনো কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা, ক্ষেত্রমত, এই বিধিমালার অধীনে কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা বলিয়া গণ্য হইবে।

শিক্ষকতা পেশার ধারণা ও এর প্রতি আবেগ অনুভূতি ও আগ্রহ সৃষ্টি

Travel: How Technology Is Shaping The Future Of Exploration

Leave A Reply