শ্রেণিকক্ষে পাঠদান: ছবি প্রদর্শণ, শিক্ষার্থীর বর্ণনা ও সৃজনশীলতা

মোঃ আবুল বাশার

0 164

শ্রেণিকক্ষে পাঠদান: ছবি প্রদর্শণ, শিক্ষার্থীর বর্ণনা ও সৃজনশীলতা

শিশুর চিন্তার জগতে প্রবেশ, প্রকাশ ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি

আমি যে বিষয়টি এখানে তুলে ধরছি তা মূলত অধিকাংশ শিক্ষকই করে থাকেন। কিছু শিক্ষককে এই বিষয়টি বেশ সতর্কতার সাথে এড়িয়ে যেতেও দেখেছি। এখানে আমি বলছি তা মূলত আমার নিজস্ব চিন্তা । এর সাথে যুতসই কোন চিন্তা, ভালো চিন্তা থাকে তাহলে যুক্ত করার অনরোধকে সব সময় স্বাগত।

পাঠদানের সময় ছবি প্রদর্শণ: ইংরেজি ক্লাসে পাঠদানের সময় আমরা সকলেই দেখতে বলি। ছবি দেখে তা সম্পর্কে অনুমান নির্ভর কিছু বাক্য তাদের কাছ থেকে শুনতে চাই। তারা নিজেদের মতো করে তা বর্ণনা করে।

বর্ণনা করার আগে কিছু বিষয় থাকে যা আমাদের অজান্তেই বাদ পরে যায়। যেমন- তারা বর্ণনা করার আগে কী করবে?
আমরা বলে থাকি- শিশুরা তোমরা ছবিটি দেখো। আমি তোমাদের ছবিতে কী দেখলে তা বলতে বলব।

প্রশ্ন দাঁড়ায় ছবিতে তারা কী দেখবে?

বেশিরভাগ সময় শিশুরা মানুষ সম্পর্কীত বিষয় দেখে থাকে। অথবা যে ছবিটি বড় দেখা যায় সেই ছবি দেখে থাকে।
ছবিতে তারা কী দেখবে তা যদি বলে দেয়া যায় তাহলে অনেক সহায়ক হয়। বিশেষত কোন কোন বিষয়কে সামনে নিয়ে তারা ছবি দেখবে তাহলে তাদের জন্য বিষয়টি অনেক সহজ হয়। বর্ণনা করা তাদের সহজ হয়। এমনকি তাদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।

সৃজনশীলতার বিষয়টিকে আমরা এখনও সহজভাবে নিতে পারিনি। বিশেষত অনেক শিক্ষকই দেখা যায়- বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৃজনশীলতাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা গেছে। সরাসরি কথা বলেছি এমন অনেক শিক্ষকই সৃজনশীলতা ধুয়ে মুছে ছাপ করে দিয়েছেন। যাই হোক সৃজনশীলতা সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতাই আসলে এর মূল কারণ বলে আমি মনে করি।

শিশুরা যখন ছবি দেখবে তখন কোন কোন বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে তা হলো-

স্বাভাবিকভাবে যে ছবিটি বড় দেখা যায় বা সামনে থাকে সেটিকে আগে দেখতে হবে। এটিকে স্টার্টিং পয়েন্ট বা শুরুর পয়েন্ট বা Centre Point বলতে পারেন। এখান থেকেই বর্ণনা করতে হবে।

তারপর তারা সামনের (Foreground) অন্যান্য দৃশ্য দেখবে।
তারপর তারা পেছনের দৃশ্য (Background) দৃশ্য দেখবে।
এভাবে তারা উপরে, ডানে নিচে এবং বামের দৃশ্য দেখবে।

ছবির ভেতরের দৃশ্যগুলো যদি তারা নিয়ম মাফিক দেখে তাহলে তাদের জন্য দেখা ও চিন্তা করাটা সহজ হয়ে যায়। ছবির বাহিরে যেন তারা চিন্তা প্রথমে না করে তাও নিশ্চিত করতে হবে। তবে হ্যাঁ তারা এরপর বাহিরেরটাও চিন্তা করার সুযোগ পাবে না হলে তাদের জ্ঞানটা বৃ্ত্তবন্দি হয়ে যাবে। তবে বলার সময় বা দৃশ্য বর্ণনা করার সময় ছবির বাহিরে কিছুই বলা যাবে না।

বর্ণনা করার সময় তারা যে সকল শব্দ ব্যবহার করবে তা হলো- আমার মনে হচ্ছে, আমি চিন্তা করছি, আমার মতে, সম্ভবত, হতে পারে ইত্যাদি। তারা কখনই এটাই হবে, এটাই সত্যি, এরকমই হবে ইত্যাদি শব্দ যেন ব্যবহার না করে তা খেয়াল রাখতে হবে।

ছবিতে তারা কতটি উল্লেখিত বিষয় যদি সংখ্যায় প্রকাশ করা যায় তাহলে যেন তারা সংখ্যা উল্লেখ করে সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে।

ছবিতে একটি অংশের সাথে আরেকটি অংশের তুলনামূলক (Compare) আলোচনা করতে উৎসাহিত করা। যেমন একাধিক মানুষ থাকলে কয়জন ছোট কয়জন বড় আছে তা বলতে পারা।

এক অংশের সাথে অন্য অংশের তুলনা করতে পারা। যেমন কোন অংশের দৃশ্য তারা কাছে সুন্দর লেগেছে এবং কেন তা বলতে পারা।

প্রতিটি অংশকে শিক্ষার্থী যেন অবলোকন বা স্পর্শ ( Touch) করতে পারে তার দিকে লক্ষ রাখা আমাদের কর্তব্য। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করতে হবে।

শিশুদের কোন বর্ণনা ভুল হলেও তা না ধরা। কেননা শিশুটি তার মনোজগত দিয়ে চিন্তা করেছে তার মতো বলেছে। এমনও হতে পারে সে চিন্তা করেছে একরকম বলতে গিয়ে ভিন্ন কিছু বলে ফেলছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments
Loading...