দারিদ্র্য একটি জটিল সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যা। একে বোঝার জন্য এর ভিন্ন ভিন্ন প্রকারভেদ, সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য জানা জরুরি। নিচে দারিদ্র্য সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।
যারা মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে অক্ষম অথবা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ সামাজিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত তাদেরকেই দরিদ্র বলা হয়।
দারিদ্র্য কত প্রকার ও কি কি
দারিদ্র্যকে সাধারণভাবে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:
-
চরম দারিদ্র্য (Extreme Poverty)
-
আপেক্ষিক দারিদ্র্য (Relative Poverty)
-
অতি দরিদ্র (Ultra Poor)
আপেক্ষিক দারিদ্র্য কাকে বলে
আপেক্ষিক দারিদ্র্য হলো এমন অবস্থা, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা পরিবার সমাজের গড় জীবনমান অনুযায়ী ন্যূনতম সুবিধা ভোগ করতে ব্যর্থ হয়। যেমন—অন্যরা যখন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, তখন যে শ্রেণি তা থেকে বঞ্চিত থাকে, তারা আপেক্ষিকভাবে দরিদ্র।
চরম দারিদ্র্য কি
চরম দারিদ্র্য এমন একটি অবস্থা যেখানে মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, আশ্রয় ও পোশাক পূরণ করা যায় না। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, যারা দিনে ২.১৫ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করে, তারা চরম দরিদ্র শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
অতি দরিদ্র কাকে বলে
অতি দরিদ্র হলো দারিদ্র্যের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্তর। এরা সাধারণত কোনো জমি, সম্পদ বা নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস ছাড়াই জীবনযাপন করে। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে এরা সবচেয়ে প্রান্তিক অবস্থায় থাকে।
দারিদ্রতার কারণ গুলি কি কি
দারিদ্র্যের কারণ অনেক। এর মধ্যে প্রধান হলো:
-
কর্মসংস্থানের অভাব
-
শিক্ষার ঘাটতি
-
প্রাকৃতিক দুর্যোগ
-
স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া
-
অর্থনৈতিক বৈষম্য
-
জনসংখ্যার চাপ
বাংলাদেশের দারিদ্র্যের কারণ সমূহ
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দারিদ্র্যের কারণগুলো হলো:
-
অতিরিক্ত জনসংখ্যা
-
কৃষিনির্ভর অর্থনীতি
-
ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ
-
কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা
-
গ্রামীণ ও শহুরে বৈষম্য
-
রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা
চরম দারিদ্র্য ও আপেক্ষিক দারিদ্র্যের মধ্যে পার্থক্য
-
চরম দারিদ্র্য: মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, পোশাক, আশ্রয়) পূরণে অক্ষমতা।
-
আপেক্ষিক দারিদ্র্য: সমাজের অন্যান্য মানুষের তুলনায় জীবনযাত্রায় পিছিয়ে পড়া।
অর্থাৎ, চরম দারিদ্র্য জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম চাহিদা পূরণে ব্যর্থতা বোঝায়, আর আপেক্ষিক দারিদ্র্য বোঝায় সামাজিক বৈষম্য।


